Showing posts with label বই. Show all posts
Showing posts with label বই. Show all posts

Wednesday, 18 June 2014

লিখেছেনঃ Syed Mohammad Rezwan Life Expectancy

পৃথিবীতে এমন অনেক বইই আছে যার কাহিনী সংক্ষেপ পড়ে আপনি প্রলুব্ধ হবেন বইটি পড়ার জন্য, বইটি এক আকর্ষণ তৈরি করবে আপনার মাঝে, কিন্তু পড়ার পরে মনে হবে লেখক আপনাকে পুরোপুরি ধোঁকা দিয়েছেন। এক সুন্দর, দারুন প্লটকে খুন করা হয়েছে। ঠিক তেমনই একটা থ্রিলার গত রাতে পড়ে শেষ করলাম। ডীন কুন্টয এর 'লাইফ এক্সপেক্টেন্সি'।
এক ঝড়ো রাতে জিমি টক এর জন্ম এবং তার দাদা'র মৃত্যু হল একই সময়ে, একই হাসপাতালে। যখন তাঁর প্রথম সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায় এবং তাঁর বাবা একই হাসপাতালের আরেকটি ওয়ার্ডে মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছে, জিমি টক এর বাবা রুডি টক এক ওয়ার্ড থেকে আর এক ওয়ার্ডে দৌড়াদৌড়ি করে ক্লান্ত। একদিকে সুখ তো অন্যদিকে দুঃখ। দাদা টক মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ছেলে রুডি টককে তাঁর আগত পৌত্র জিমি টককে নিয়ে কিছু ভবিষ্যৎবাণী করে গেল। জিমি টক এর জীবনে পাঁচটি অন্ধকারময় এবং ভয়াবহ দিন আসবে। প্রথমটি আসবে জিমির ২০ তম জন্মদিনের সময় এবং শেষটি ঘটবে তার ৩০ তম জন্মদিনের সময়। জিমির বাবা রুডি বিশ্বাস না করলেও সেই পাঁচটি তারিখ লিখে নেয়। রুডি বিশ্বাস করতে বাধ্য হল যখন তাঁর বাবার আরও একটি ভবিষ্যৎবাণী মিলে গেল জিমি'র জন্মের সাথে সাথে। জিমি'র দাদা বলেছিলেন যে, তাঁর পৌত্রের জন্মের সময় তাঁর পায়ের ৩টি আঙ্গুল জোড়া অবস্থায় থাকবে, জিমির জন্মের সময় এবং ওজন ও উচ্চতাও মিলে গেল !
লাইফ এক্সপেক্টেন্সির কাহিনী সংক্ষেপ এককথায় অসাধারন। এক চিত্তাকর্ষক কাহিনী এবং এই কাহিনী পাঠককে পুরো বইটি পড়ার জন্য প্রলোভিত করে। আর এই থ্রিলারটি পড়ার আমার আরও একটি কারন ছিল। এই বইয়ের কাহিনী যেন আমারই জীবন কাহিনী! জ্যোতিষকার্যে আমি মোটেও বিশ্বাস করি না, আমার পুরো পরিবারেও কেউ করে না। আমার জন্মের কয়েকমাস আগে আমাদেরই এক আত্মীয় বলেছিলেন, আমার জীবনে পাঁচটি 'নিশ্চিত' 'ভয়াবহ দিন' আসবে যা আমাকে মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে যাবে। তবে সেই ব্যক্তি 'লাইফ এক্সপেক্টেন্সি'র দাদা'র মত নির্দিষ্ট কোন দিন বলেননি। তিনি কিন্তু কোন জ্যোতিষও নন। সেই পাঁচটির মধ্যে চারটি দিনে মৃত্যুকে আমি বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে এখনও বেঁচে আছি! যাই হোক বন্ধুর মুখে এই কাহিনী সংক্ষেপ শোনার পরে মাত্র দুইরাতে বইটি পড়ে ফেললাম।
লাইফ এক্সপেক্টেন্সির ভালো দিকঃ গল্পের প্লট ভালো। বইটি পড়া যায় এবং তা বেশ দ্রুততার সাথে।
খারাপ দিকঃ যেখানে কাহিনী সংক্ষেপকে আমি অসাধারন, চিত্তাকর্ষক, লোভনীয় কাহিনী বললাম সেখানে বইয়ের আবার খারাপ দিক কীইবা থাকতে পারে!! কারন পুরা ডাহা মিথ্যা কথা বলে পাঠককে তথা আমাকে বইটা পড়ানো হয়েছে। বুঝলাম দাদা বলেছেন পাঁচটি মরন দিন আসবে, তোমরা প্রস্তুত থেকো। প্রস্তুত যখন ছিলই তখন জিমি কোন আক্কেলে ঘর থেকে বের হল এবং সেধে সেধে কেন এক সাইকোপ্যাথ ব্যাংক ডাকাতের রাইফেলের মুখোমুখি হল !! কাহিনী তো কুন্টয অন্যভাবেও তৈরী করতে পারতেন ?? ঠিকআছে, প্রথম 'ভয়াবহ' দিন সম্বন্ধে তাঁদের ধারনা ছিল না যে কী পরিমান 'ভয়াবহ' হবে তাই তাঁরা একটু অসতর্কই ছিল, কিন্তু পরবর্তী দিনগুলোতে প্রথমে সতর্ক থেকেও কেন সরে আসলো সতর্কতা থেকে?? অদ্ভুত!! কুন্টযকে বলা হয় 'মাষ্টার অফ আনপ্রেডিক্ট্যাবিলিটি'। আনপ্রেডিক্ট্যাবিলিটি আনার জন্য এমন সব হাস্যরসাত্মক 'ক্লিফহ্যাঙ্গার' সৃষ্টি করবেন যার কোনই মানে নেই।
কদর্য দিকঃ হিন্দি সিরিয়ালে কী দেখা যায়?? দশম পর্বে কাহিনী যে জায়গায় ছিল, ৩০ তম পর্বেও কাহিনী সেই একই জায়গায় রয়ে গেছে। অর্থাৎ কাহিনী এগোলো না, কাহিনীর কোন গতিই নেই। লাইফ এক্সপেক্টেন্সিতেও একই জিনিস পেলাম আমি। ৫০ পৃষ্ঠায় যে ক্রিসমাস ডিনারে বসলো পরিবারের সবাই, ৮০ পৃষ্ঠা পর্যন্তও তাঁরা খেতে লাগলেন এবং ফালতু প্যাচাল পারতে থাকলেন। এগুলা কী!! পশ্চিমা অনেক লেখকই কাহিনী স্ট্রেচ করেন, স্টিফেন কিংও করেন, কিন্তু তাই বলে এতটাই কদর্যভাবে! জিমির দাদী কোন নিউজপেপার পড়েন এবং কেন পড়েন, কোন পাতায় কি কি থাকে এগুলো জেনে একজন পাঠক কী করবে! হ্যাঁ অবশ্যই চরিত্র চিত্রায়নে দরকার হয় এই ধরনের তথ্য যদি সেই চরিত্র কাহিনীর জন্য গুরুত্বপুর্ণ হয়ে থাকেন। নিউজপেপারের কাহিনী নিয়ে যদি চার পৃষ্ঠা লেখা হয় তাহলে একে কাহিনী স্ট্রেচিং ছাড়া আর কীইবা বলা যায়!!
বুঝলাম, টক পরিবার হচ্ছে বেকারি ফ্যামিলি। তাঁরা প্যাস্ট্রি কিং ওই লোকালয়ের। সেটা তো বুঝানোই যায় অল্প কয়েক কথায়। কিন্তু তাই বলে জার্মানী, ফ্রান্সের দাঁত ভেঙ্গে যাওয়ার মত নামের প্যাস্ট্রির ম্যানু তো একটা সাসপেন্স থ্রিলারে মানায় না।
থ্রিলার, হররে হিউমর ভালই লাগে। ব্রিদিং স্পেস হিসেবে কাজ করে। কিন্তু কুন্টয যে হিউমর, স্যাট্যায়ার লাইফ এক্সপেক্টেন্সি তে ব্যবহার করেছেন তা মোটেও মানসম্মত ছিল না। অনেক সস্তা মানের হিউমরে ভর্তি। হিউমরেরও তো একটা সঠিক সময় আছে। যখন এক সাইকো আপনার মগজের বাইরের খোলসে একটা শটগান ধরে রাখবে, তখন কী এগুলো মানায়!! রম্যগল্প হলে যেত, কিন্তু ডার্ক সাসপেন্স থ্রিলার ক্যাটাগরিতে যখন বই বিক্রি করা হবে তখন অবশ্যই এই সস্তা হিউমর কাহিনীর সাথে যায় না। সাসপেন্সরই তো কতল করে দিল। একটা সিকোয়েন্সে, খোলা মাঠে পাঁচজন শটগান, কুড়াল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে জিমির বিপক্ষে, কিন্তু তারপরেও জিমি'র কিছুই হয় না। জিমি তো লেখক দ্বারাই নিরাপদ!!
কুন্টয এর থ্রিলার প্রথম পড়ি ৮২০ পৃষ্ঠার 'ফ্রম দ্য কর্নার অফ হিজ আইস'। ৮২০ পৃষ্ঠার একটা সাসপেন্স থ্রিলারে পুরো ৮২০ পৃষ্ঠাতেই সাসপেন্স ধরে রাখা এবং পাঠককেও বইয়ের মাঝে আটকে রাখা অবশ্যই বড় গুণ। কিন্তু লাইফ এক্সপেক্টেন্সি!! কিছুই বলার আর বাকী নাই। আমি পুরোপুরি হতাশ। কিন্তু ব্যাপার নাহ!! জীবনে অনেক বাজে বইই তো পড়েছি। ৫৩০ পৃষ্ঠাকে যদি ২৫০ এ নামিয়ে আনতেন কুন্টয, তাহলেও হয়ত ভালো কিছু বলতে পারতাম।
গুডরীডস এ দেখলাম ওভারঅল রেটিং এই বইয়ের ৩.৯৫/৫.০০ এবং সেখানকার রিভিউতেও পাঠকদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ও ৫/৫ রেটিং। কিন্তু আমি তা পারলাম না। কেবলমাত্র বইটি পড়া যায় বলেই ১.৫ দিলাম।
এক নজরেঃ নামঃ লাইফ এক্সপেক্টেন্সি লেখকঃ ডীন কুন্টয প্রকাশকালঃ ২০০৪ ধরনঃ সাসপেন্স/ সাইকোলোজিক্যাল থ্রিলার গুডরীডস রেটিং- ৩.৯৫/৫.০০ আমার রেটিং- ১.৫/৫.০০

Tuesday, 17 June 2014

লিখেছেনঃ Ismail Arman parl_maiden

পার্ল মেইডেন মূল: হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড রূপান্তর ও প্রচ্ছদ পরিকল্পনা: ইসমাইল আরমান প্রথম প্রকাশ: জানুয়ারি, ২০০৯
এ-গল্প মিরিয়ামের। পিতৃ-মাতৃহীন, অসহায়, আশ্রিতা এক খ্রিস্টান তরুণী... ভয়ঙ্কর এক যুদ্ধের মাঝখানে যে-মেয়েটি ন্যায়, সত্য ও শান্তির জন্য নিজের জীবন বিপন্ন করেছিল।
এ-গল্প মারকাসের। দুঃসাহসী, দক্ষ, নিবেদিতপ্রাণ এক রোমান সৈনিক... মিরিয়ামের ভালবাসা যাকে বদলে দিয়েছিল।
এ-গল্প ক্যালেবের। রুক্ষ, একগুঁয়ে, প্রতিশোধপরায়ণ এক ইহুদি যুবক... মিরিয়ামের প্রত্যাখ্যান যাকে উন্মাদ করে তুলেছিল।
এ-গল্প হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের লেখা। শাশ্বত প্রেম, রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর নির্দয় প্রতিহিংসার এক রুদ্ধশ্বাস উপাখ্যান।
আর কিছু বলার প্রয়োজন আছে কি?
---পেছনের গল্প---
২০০৮ সাল। লেখালেখির দেড় দশকের বেশি অতিক্রম করে ফেলেছি। তবে অয়ন-জিমি নামের একটি কিশোর সিরিজের লেখক হিসেবে সামান্য পরিচিতি ছাড়া আর কোনও উল্লেখযোগ্য অর্জন নেই। তা ছাড়া সিরিজটার বিক্রি আশানুরূপ নয়, ফলে ২০০১ এর পর থেকে আর কোনও বই বেরোয়নি। রহস্যপত্রিকায় কালেভদ্রে একটা-দুটো গল্প ছাপা হয়, লেখালেখি বলতে ওটুকুই। সবমিলিয়ে বেশ হতাশাজনক একটা পরিস্থিতি, মন তাই বিষণ্ন। এ অবস্থায় একদিন গেলাম সেগুনবাগিচায়... সেবা প্রকাশনীতে। কাজে নয়, স্রেফ আত্মার টানে। ওখানে গেলেই মন ভাল হয়ে যায়, কারণটা আর কিছু না... প্রিয় কাজীদার জন্যে। বড় কোনও লেখক নই আমি, তারপরেও কেন যেন সাক্ষাৎ চাইলেই আমার সঙ্গে দেখা করেন তিনি। গল্প করেন, খবরাখবর নেন। কিশোর অবস্থায় প্রথম বই লিখেছিলাম, এখনও আমি সেই ছোট্ট ছেলেটি রয়ে গেছি তাঁর চোখে... বোধহয় সেই স্নেহ থেকেই দেখা না দিয়ে পারেন না। সেদিনও দেখা করলেন। কথাবার্তার এক ফাঁকে নিজের হতাশার কথা জানালাম। জবাবে ছোট্ট করে তিনি শুধু বললেন, ‘তুমি অনুবাদ করো। তোমার হাতে ভাল আসবে।’
লেখালেখির ধারা পরিবর্তনের পরামর্শ যে আগে কখনও পাইনি, তা নয়। এর আগেই কাজী শাহনূর হোসেন আমাকে ওয়েস্টার্ন লিখতে বলেছিলেন। অ্যাডাপ্টেশনের জন্য ইংরেজি দুটো বইও দিয়েছিলেন। পড়ার পর কোনোটাই পছন্দ হয়নি। আমার নিজের সংগ্রহে আর কোনও বইও ছিল না। তাই ওয়েস্টার্ন আর লেখা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু কাজীদার কথায় নিজের ভিতরে আলাদা এক অনুপ্রেরণা অনুভব করলাম। অনুবাদ আমার জন্য নতুন কিছু নয়, রহস্যপত্রিকায় আমার সব লেখাই বিদেশি কাহিনির অনুবাদ। তবে সেগুলো ছোটগল্প। গোটা উপন্যাস অনুবাদ করবার সাহস করিনি কখনও। কিন্তু কাজীদা যখন বলেছেন, তখন তো আর তাঁর কথা অগ্রাহ্য করা যায় না। কোমর বেঁধে নেমে পড়লাম কাজটায়।
প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো, বই বাছাই করা। কোন্ লেখকের কোন্ বই অনুবাদ করব। লেখক সহজেই নির্বাচন করা গেল। কাজী শাহনূর হোসেন বললেন, ‘হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের বই ধরুন। লেখক যেমন ভাল, বাজারে চাহিদাও বেশি।’ ভাল কথা, কিন্তু হ্যাগার্ডের কোন্ বই অনুবাদ করব? আমার জানামতে নামকরা সবগুলোই (শী, রিটার্ন অভ শী, সলোমনের গুপ্তধন, অ্যালান কোয়াটারমেইন, ইত্যাদি) হয়ে গেছে। এরপরে কোনটা ভাল জানতে হলে পড়ে দেখতে হবে মূল ইংরেজিগুলো। ভয় ধরানো ব্যাপার... কারণ হ্যাগার্ডের পুরনো ধাঁচের লেখনীতে একের পর এক বই পড়া দুঃসাধ্য কাজ। ইণ্টারনেটের সাহায্যে কিছুটা গবেষণা করলাম - কাহিনিসংক্ষেপ আর পাঠক প্রতিক্রিয়া দেখে শর্টলিস্ট বানালাম একটা। শেষ পর্যন্ত পছন্দ করলাম নীচের বইটা... পার্ল মেইডেন। পড়তে শুরু করেই ভাল লেগে গেল। প্রাচীন রোমান পটভূমিতে প্রেম, প্রতিহিংসা, ঈর্ষা আর সংগ্রামের এই অপূর্ব কাহিনি আমাকে মুগ্ধ করে ফেলল। ঠিক করলাম, এ-ই দিয়ে শুরু হবে আমার অনুবাদ যাত্রা।
দীর্ঘ কয়েক মাস খাটাখাটনির পর শেষ হলো লেখা। ভয়ে ভয়ে জমা দিলাম কাজীদার কাছে। কয়েক দিন পর ফোন করে প্রচ্ছদ চাইলেন তিনি। বুঝলাম, বই ছাপা হচ্ছে। ফোনে বেশি কথা বলা সম্ভব নয়, কয়েকদিন পর প্রচ্ছদ জমা দিয়ে ইতস্তত করে জিজ্ঞেস করলাম, ‘বইটা কি পড়ে দেখেছেন, কাজীদা? কেমন হয়েছে?’
‘পুরোটা পড়িনি। প্রথম পরিচ্ছেদ পড়েছি। চমৎকার লিখেছ।’
‘সে কী! পুরোটা না পড়লে কী করে বুঝলেন বইটা ছাপার যোগ্য হয়েছে?’
‘ওই এক পরিচ্ছেদ পড়লেই বোঝা যায়। তা ছাড়া তোমার লেখা তো আমি আগেও পড়েছি।’
‘কিন্তু সম্পাদনার প্রয়োজন আছে না? ভিতরে যদি ভুলভাল থেকে যায়?’
‘নেই বলেই তো মনে হলো। তাও তুমি যদি চাও তো প্রুফের সময় চোখ বুলিয়ে দিয়ো।’
তা-ই করলাম। শেষ পর্যন্ত ২০০৯ এর জানুয়ারিতে বের হলো পার্ল মেইডেন। পরের মাসে বইমেলা। এতদিন পর একটা বই বেরুল... কৌতূহল থেকে বেশ কয়েকদিন গেলাম মেলায়, বসে রইলাম সেবার স্টলে। কেউ আমাকে চেনে না, চুপচাপ দেখছি... পাঠক বই কিনতে আসছেন, হ্যাগার্ডের বই চাইছেন, কিন্তু অনুবাদকের জায়গায় আমার নাম দেখে ভুরু কুঁচকে ফেলছেন। পরক্ষণে অবশ্য সেবার মনোগ্রামের দিকে তাকিয়ে দাম চুকিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বইটা। বই ভাল কি মন্দ হলো বুঝতে পারছি না।
মেলা শেষ হবার কয়েকদিন পর আমার কলেজ পড়ুয়া ভাগ্নি (খুব একটা গল্পের বই পড়ে না) এসে জিজ্ঞেস করল, ‘মামা, পার্ল মেইডেন কি তুমি অনুবাদ করেছ?’
‘হ্যাঁ তো। কেন?’
‘আমার বান্ধবীরা খুব প্রশংসা করছে বইটার। তোমার অটোগ্রাফ চাইছে। সই করে কয়েক কপি দাও তো। আর আমাকেও একটা দিয়ো। পড়ে দেখব।’
অবশেষে মুখে হাসি ফুটল আমার। বুঝলাম, পরীক্ষায় উৎরে গেছি। কাজীদা ঠিকই বলেছিলেন, অনুবাদ ভাল আসবে তোমার হাতে। লেখক হিসেবে আমার এখন যা পরিচিতি, যা সুনাম... সবই এসেছে অনুবাদের কল্যাণে। শুধু তা-ই নয়, আমাকে ও সেবার অন্যান্য সব লেখক-অনুবাদককে হাতে ধরে লিখতে শিখিয়েছেন তিনি। অসাধারণ এই মানুষটির গাইডেন্সে আরও কত লেখকের যে জীবনের মোড় ঘুরে গেছে, তা বলে শেষ করা যাবে না।
জয়তু কাজীদা।

Monday, 16 June 2014

লিখেছেনঃ Souro Jeet


কিছু মৌলিক এবং কিছু অনুবাদ থৃলার গল্পের সংকলন এই বইটি।বাতিঘর প্রকাশনী থেকে মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন এর সম্পাদনায় ২০১৩ সালের বইমেলায় বেরিয়েছে।

১।মেমেস্তা মোরি-জোনাথান নোলান,অনুবাদ-মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বইয়ের প্রথম গল্প এটি।প্রথম যখন পড়া শুরু করি ঠিকমত কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।গল্পটি শেষ হবার পর মোটামুটি বুঝতে পারি,যদিও এখনো পুরোপুরি সব বুঝতে পারিনি।যাই হোক গল্পটি মন্দ লাগেনি। আমার রেটিং-৩.৮/৫

২।লটারি-মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন সত্যি বলতে কি প্রথম গল্পটা পরে একটু হতাশই হয়েছিলাম।কিন্তু আমার এই হতাশা এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিল লটারি।নিঃসন্দেহে এটাই এই সংকলনের সেরা গল্প।একটি লটারির টিকিট আর সেটিকে ঘিরে মানুষের অদম্য লোভকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে এই অসামান্য গল্পটি।এটি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন এর একটি মৌলিক লেখা।তিনি অসামান্য দক্ষতায় লেখাটিতে তুলে এনেছেন মানব চরিত্রের এক আদিম রিপুকে। আমার রেটিং-৫/৫

৩।ফলিং-ক্রিস মুনি,অনুবাদ-তানজীম রহমান “ম্যালকম ফ্লেচার এফবিআই এর মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টের একজন।অন্যদিকে মার্লেনা সাধারন এক ল্যাব টেকনিশিয়ান।এই মার্লেনাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে ম্যালকমকে ধরার টোপ হিসেবে।” গল্পটা ভালোই লেগেছে।অনুবাদকও ভাল কাজ করেছে। আমার রেটি-৪/৫

৪।স্বদেহভোগী-তানজীম রহমান একটি হত্যারহস্যকে ঘিরে গল্পটি এগিয়ে চলে।গল্পটি পড়তে খারাপ লাগেনি,কিন্তু এর নামকরণের সার্থকতা কতটুকু বুঝলাম না। আমার রেটিং-৩.৫/৫

৫।আবার ফিরে আসে-শরীফুল হাসান এই সংকলনের অন্যতম সেরা লেখা এটি।“পার্থ আহমেদ,দেশের নামকরা এক তারকা।কিন্তু তার পিছে কে যেন লেগেছে প্রতিশোধের নেশায়।”লেখক গল্পটিতে অসাধারণ কাজ করেছেন। আমার রেটিং-৪.৫/৫

৬।শোধ প্রথমেই একটু কনফিউসন আছে।সুচিপত্রে গল্পটির লেখক শরীফুল হাসান থাকলেও,মূল গল্পে লেখকের জায়গায় নাম লেখা শরীফুল ইসলাম এর! “আজহার আলী দুই বছর ধরে একটি সমস্যা নিয়ে চিন্তা করছেন।আজ তার সমাধান তিনি পেয়েছেন।”গল্পটি ভালই লেগেছে। আমার রেটিং-৪/৫

৭।দ্য ফেস ইন দি উইন্ডো-হিদার গ্রাহাম,অনুবাদ-রবিন জামান খান  “ঝড়ের রাত।বাসায় একা বেথ।সেসময় সে জানালার কাঁচে দেখে মুখটা।চোখদুটো টকটকে লাল,ঠিক যেন হরর ছবিতে কোন শয়তানের চোখের মত জ্বলছে।” আমার রেটিং-৪/৫

৮।দ্য আবেলার্ড স্যাংশন-ডেভিড মোরেল,অনুবাদ-রবিন জামান খান “সল এবং এরিকা,তারা দম্পতি।এরিকা খুন করতে চায় হাবিবকে।সল চায় এরিকাকে আটকাতে।”গল্পের প্রথমে এই ধারনা দিলেও গল্পের শেষে এই ধারনা থাকে না। আমার রেটিং-৪/৫

৯।সুইসাইড,রবিন জামান খান “মি. হাসান জগিং করতে করতে থামেন এক বেঞ্চের কাছে।দেখতে পান এক যুবককে।এই যুবক নাকি আত্মহত্যা করতে চায়।মি. হাসান চেষ্টা করেন তাকে আটকাতে।তারপর?”গল্পটি ভাল লেগেছে যেমন বলা যাবেনা,খারাপ লেগেছেও বলা যাবেনা। আমার রেটিং-৩.৫/৫

১০।হিরু-জাহিদ হোসেন গল্পটি এক কথায় বলতে গেলে একটি রম্য থৃলার।বেশ মজাই পেয়েছি পড়তে। “ওর নাম বাবু হলেও সবাই আদর করে ডাকে কুত্তা বাবু!সে এক শীর্ষ সন্ত্রাসী।কত লোক যে তার জীবন নিতে চায় তার কোন হিসেব নেই।কিন্তু সে এটা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয়।সে যাচ্ছে তার ছোটবেলাকার জিগরি দোস্ত নাবিদের সাথে দেখা করতে।” আমার রেটিং-৪.৫/৫

১১।পুণর্জাগরণ-জাহিদ হোসেন “কবর দেয়ার পাঁচ দিন পর ইলিয়াস মিয়া দৌলতপুরে সশরীরে হাজির হলে সারা গ্রামে তোলপাড় শুরু হল”গল্পটির এই প্রথম লাইনটিই যথেস্ত যে কারো মনযোগ আকর্ষণের জন্য।এটিও আগের গল্পটির মত রম্য স্টাইলের হলেও এর রম্য রসের মাত্রা কম।কারন এতে যোগ হয়েছে কিছু মানবিক দিকও। আমার রেটিং-৪/৫

১২।মমতাময়ী-মাশুদুল হক দারুন এক গল্প।এই সংকলনে আমার অন্যতম প্রিয় গল্প এটি। আমার রেটিং-৪.৫/৫

১৩।নির্বাণ-নওশের ইবনে হালিম ডন একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্পটি লেখা।প্রথমে কিছু বুঝতে পারছিলাম না।শেষে বুঝতে শুরু করি।ভাল ভাবে বোঝার জন্য গল্পটি আবার পড়লাম।এবার সব ক্লিয়ার হল।লেখকের এই লেখার ধরণটি প্রশংসনীয়।যদিও আমার মতে তিনি লেখাটিকে এত জটিল না করলেও পারতেন।সব মিলিয়ে লেখাটি পড়তে খারাপ লাগেনি। আমার রেটিং-৩.৫/৫

নিঃসন্দেহে বাতিঘরের একটি দারুন প্রয়াস এই সংকলনটি।আমার জানামতে তারা প্রতিবছর এরকম একটি সংকলন বের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।যার ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে বের হয়েছে থৃলার গল্প সংকলন ২।তাদের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।আশা করি বাতিঘরের কাছ থেকে প্রতিবছর এমন একটি সংকলন উপহার পাব।

এক নজরে
বইয়ের নাম-থৃলার গল্প সংকলন। সম্পাদক-মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। প্রকাশক-বাতিঘর প্রকাশনী। মোট গল্প-১৩ টি। মৌলিক গল্প-৯ টি। অনুবাদ-৪ টি। মোট লেখক-৭ জন। প্রকাশকাল-ফেব্রুয়ারি বইমেলা,২০১৩। প্রচ্ছদ-ডিলান। গায়ের মূল্য-১৭০ টাকা। আমার রেটিং-৪/৫

সোর্সঃ বই লাভার'স পোলাপান (Boi lover's polapan)

প্রিয় কবিতারা...