Showing posts with label bangla kobita. Show all posts
Showing posts with label bangla kobita. Show all posts

Monday, 8 December 2014

ওটা কিছু নয়

- নির্মলেন্দু গুণ

এইবার হাত দাও, টের পাচ্ছো আমার অস্তিত্ব ? পাচ্ছো না ?
একটু দাঁড়াও আমি তৈরী হয়ে নিই ।
এইবার হাত দাও, টের পাচ্ছো আমার অস্তিত্ব ? পাচ্ছো না ?
তেমার জন্মান্ধ চোখে শুধু ভুল অন্ধকার । ওটা নয়, ওটা চুল ।
এই হলো আমার আঙ্গুল, এইবার স্পর্শ করো,–না, না, না,
-ওটা নয়, ওটা কন্ঠনালী, গরলবিশ্বাসী এক শিল্পীর
মাটির ভাস্কর্য, ওটা অগ্নি নয়, অই আমি–আমার যৌবন ।
সুখের সামান্য নিচে কেটে ফেলা যন্ত্রণার কবন্ধ–প্রেমিক,
ওখানে কী খোঁজ তুমি ? ওটা কিছু নয়, ওটা দুঃখ ;
রমণীর ভালোবাসা না-পাওয়ার চিহ্ন বুকে নিয়ে ওটা নদী,
নীল হয়ে জমে আছে ঘাসে,–এর ঠিক ডানপাশে , অইখানে
হাত দাও, হ্যাঁ, ওটা বুক, অইখানে হাত রাখো, ওটাই হৃদয় ।
অইখানে থাকে প্রেম, থাকে স্মৃতি, থাকে সুখ, প্রেমের সিম্ফনি ;
অই বুকে প্রেম ছিল, স্মৃতি ছিল, সব ছিল তুমিই থাকো নি ।

Friday, 5 December 2014

তখন সত্যি মানুষ ছিলাম

– আসাদ চৌধুরী 

নদীর জলে আগুন ছিল
আগুন ছিল বৃষ্টিতে
আগুন ছিল বীরাঙ্গনার
উদাস করা দৃষ্টিতে।
আগুন ছিল গানের সুরে
আগুন ছিল কাব্যে,
মরার চোখে আগুন ছিল
এ কথা কে ভাববে ?
কুকুর-বেড়াল থাবা হাঁকায়
ফোঁসে সাপের ফণা
শিং কৈ মাছ রুখে দাঁড়ায়
জ্বলে বালির কণা।
আগুন ছিল মুক্তিসেনার
স্বপ্ন-ঢলের বন্যায়-
প্রতিবাদের প্রবল ঝড়ে
কাঁপছিল সব অন্যায়।
এখন এসব স্বপ্নকথা
দূরের শোনা গল্প,
তখন সত্যি মানুষ ছিলাম
এখন আছি অল্প।

 

Monday, 1 December 2014

কথোপকথন ১১ 

 – পুর্ণেন্দু পত্রী


– তুমি আজকাল বড্ড সিগারেট খাচ্ছ শুভন্কর।
– এখুনি ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছি…
কিন্তু তার বদলে??
–বড্ড হ্যাংলা। যেন খাওনি কখনো?
– খেয়েছি।
কিন্তু আমার খিদের কাছে সে সব নস্যি।
কলকাতাকে এক খাবলায় চিবিয়ে খেতে পারি আমি,
আকাশটাকে ওমলেটের মতো চিরে চিরে,
নক্ষত্রগুলোকে চিনেবাদামের মতো টুকটাক করে,
পাহাড়গুলোকে পাঁপর ভাজার মতো মড়মড়িয়ে,
আর গঙ্গা?
সে তো এক গ্লাস সরবত।
–থাক। খুব বীরপুরুষ।
–সত্যি তাই…
পৃথিবীর কাছে আমি এই রকমই ভয়ংকর বিস্ফোরণ।
কেবল তোমার কাছে এলেই দুধের বালক,
কেবল তোমার কাছে এলেই ফুটপাতের নুলো ভিখারি,
এক পয়সা, আধ পয়সা কিংবা এক টুকরো পাউরুটির বেশী আর কিছু ছিনিয়ে নিতে পারিনা।
–মিথ্যুক..।
–কেন?
–সেদিন আমার সর্বাঙ্গের শাড়ি ধরে টান মারনি?
– হতে পারে।
ভিখারিদের কি ডাকাত হতে ইচ্ছে করবে না একদিনও??

Sunday, 5 October 2014

আমরাই তো - জাহিদ হাসান

বড় পরিবারে একটা আনন্দ আছে, আবার একটা কষ্টও আছে!
বড় পরিবারে যদি কেউ অসুস্থ হয়
তোমাকেই যেতে হবে হাসপাতালে
এমন কথা নয়, অন্য একজন গেলেই হলো
আবার বড় পরিবারে যদি একটা মাছ কেনা হয়
কেউ মাছের টুকরা পায়, কেউ পায় না...
এটাই বড় পরিবার
আমি থেকে আমরা, আমরা থেকে আমাদের
আমি যদি আমার পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বলি, যাও 
ঈদের বাজার করো
আমরা খুশি
কিন্তু যদি ৫০ হাজার টাকা না দিয়ে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে বলি, 
যাও বাজার করো, তাতেও খুশি...
বাকি (৫০ থেকে ২৫) ২৫ হাজার টাকা কেন আমাদের পরিবারের 
ভাই বা বোনকে দিই না?
দিলে তারাও খুশি...
দেশটা কি পরিবারের বাইরে?
আমার খুশি থেকে যদি আমাদের খুশি হয়,
অসুবিধা কী?
আমরাই তো...

(বি.দ্র. বলেছিল কবিতা লিখতে, মনের কথা লিখে দিলাম। কবিতা তো মনের কথাই।)
শেষ চিঠি
- বিদ্যা সিনহা সাহা মিম

দরজাটা বন্ধ, কিন্তু জানলা
খোলা থাকল,
শুধু তোমার জন্য।
কখন ইচ্ছে হলে
দূর থেকে আমাকে দেখো...
আমি জানি তোমার ইচ্ছে হবে,
আমারও...
আবার কখনো কোথাও দেখা হয়ে গেলে
থমকে দাঁড়াব না,
চলে যেতে যেতে হয়তো পিছন ফিরে
একটুখানি দেখব তোমাকে।
আগের মতো দূরে এসে আমাকে
জড়িয়ে ধোরো না।
আমি জানি তোমার ইচ্ছে হবে,
আমারও...
পড়ন্ত বিকেলের সেই স্মৃতিগুলো আর কাছে টানবো না।
মনে পড়বে হয়তো কিছু
সময়ের জন্য।
স্বপ্ন দেখার সেই পুরোনো দিনগুলো
আর খোঁজো না...
জানি তোমার ইচ্ছে হবে,
আমারও...
মেয়েটি সমুদ্রকে ভালোবেসে এক ফোঁটা পানি দিতে চেয়েছিল
- মোশাররফ করিম

মেয়েটি সমুদ্রকে ভালোবেসে এক ফোঁটা পানি দিতে চেয়েছিল
কিন্তু অকূল অর্ণব তা কোথায় রাখবে, তার তো কূল নেই।
তারপর হাঁটতে হাঁটতে একটা একলা পাহাড়ের সঙ্গে দেখা হলে
পাহাড়টি যুগের পিপাসা নিয়ে মেয়েটিকে ডাক দিলে কাঙ্গালের সঙ্গে কাঙ্গালের মিলন হলো।
মেয়েটি এখন পাহাড়ের সঙ্গে হাঁটে
মেয়েটি পাহাড়ের সঙ্গে হাঁটে আর সমুদ্রের গর্জন শোনে
মেয়েটি পাহাড়ের সঙ্গে হাঁটে আর সমুদ্রের ঢেউ গোনে
মেয়েটি পাহাড়ের সঙ্গে হাঁটে আর সমুদ্র তাকে ওঠায় নামায়
দোলায় ভাসায়।
মেয়েটি পাহাড়ের সঙ্গে হাঁটে
হাঁটতে হাঁটতে একটা সমুদ্রের সঙ্গে দেখা হয়ে গেলে
পাহাড়টি থেমে যায়।
মেয়েটিও।
পাহাড়টি বলে ওঠে, আমার কোনো গর্জন নেই
আমি ওঠাতে পারি না, নামাতে পারি না।
দোলাতে পারি না, ভাসাতে পারি না।
আমার আছে বুকভরা চাপা কান্না
তাতে তোমার কিছু যাবে আসবে না।

Saturday, 12 July 2014

সুন্দরের হাতে আজ হাতকড়া, গোলাপের বিরুদ্ধে হুলিয়া,
হৃদয়ের তর্জমা নিষিদ্ধ আর মননের
সম্মুখে প্রাচীর
বিবেক নিয়ত বন্দী, প্রেমের বিরুদ্ধে পরোয়ানা;
এখানে এখন পাখি আর প্রজাপতি ধরে ধরে
কারাগারে রাখে-
সবাই লাঞ্ছিত করে স্বর্ণচাঁপাকে;
সুপেয় নদীর জলে ঢেকে দেয় বিষ, আকাশকে
করে উপহাস।
আলোর বিরুদ্ধাচারী আঁধারের করে শুধু স্ততি,
বসন্তের বার্তা শুনে জারি করে পূর্বাহ্নে কারফিউ,
মানবিক উৎসমুখে ফেলে যতো শিলা ও পাথর-
কবিতাকে বন্দী করে, সৌন্দর্যকে পরায় শৃঙ্খল।

Thursday, 10 July 2014

ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল,
ভালো থেকো।
ভালো থেকো ধান, ভাটিয়ালি গান,
ভালো থেকো।
ভালো থেকো মেঘ, মিটিমিটি তারা।
ভালো থেকো পাখি সবুজ পাতারা।
ভালো থেকো চর, ছোট কুড়ে ঘর,
ভালো থেকো।
ভালো থেকো চিল, আকাশের নীল,
ভালো থেকো।
ভালো থেকো পাতা, নিশির শিশির।
ভালো থেকো জল, নদীটির তীর।
ভালো থেকো গাছ, পুকুরের মাছ,
ভালো থেকো।
ভালো থেকো কাক কুহুকের ডাক,
ভালো থেকো।
ভালো থেকো মাঠ, রাখালের বাশিঁ।
ভালো থেকো লাউ, কুমড়োর হাসি।
ভালো থেকো আম, ছায়া ঢাকা গ্রাম,
ভালো থেকো।
ভালো থেকো ঘাস, ভোরের বাতাস,
ভালো থেকো।
ভালো থেকো রোদ, মাঘের কোকিল,
ভালো থেকো বক আড়িয়ল বিল,
ভালো থেকো নাও,
মধুমতি গাও,ভালো থেকো।
ভালো থেকো মেলা, লাল ছেলেবেলা,
ভালো থেকো।
ভালো থেকো, ভালো থেকো, ভালো থেকো।

Wednesday, 9 April 2014

বুকের সীমান্ত বন্ধ তুমিই করেছো
খুলে রেখেছিলাম অর্গল,
আমার যুগল চোখে ছিলো মানবিক খেলা
তুমি শুধু দেখেছো অনল।
তুমি এসেছিলে কাছে, দূরেও গিয়েছো যেচে
ফ্রিজ শটে স্থির হয়ে আছি,
তুমি দিয়েছিলে কথা, অপারগতার ব্যথা
সব কিছু বুকে নিয়ে বাঁচি।
উথাল পাথাল করে সব কিছু ছুঁয়ে যাই
কোনো কিছু ছোঁয় না আমাকে,
তোলপাড় নিজে তুলে নিদারুণ খেলাচ্ছলে
দিয়ে যাই বিজয় তোমাকে।

প্রিয় কবিতারা...